Skip to main content

২.৫ টাকা দিয়ে প্রথম কমলালেবুর ব্যবসায় শুরু করেছিলেন শেখ আকিজ

শেখ আকিজ উদ্দিন



এক নজরে জনাব শেখ আকিজ উদ্দিন

জন্মঃ ১৯২৮ সালে
পিতাঃ শেখ মফিজ উদ্দিন 
মাতাঃ মোসাম্মৎ মতিনা খাতুন 
প্রথম ব্যবসায়ঃ কমলালেবুর ব্যবসায়
প্রাথমিক মূলধনঃ ২.৫ টাকা 
প্রতিষ্ঠান সমূহঃ আকিজ বিড়ি ফ্যাক্টরি, আকিজ টেক্সটাইল মিলস লিঃ, আকিজ সিমেন্ট কারখানা ইত্যাদি।


শেখ আকিজ উদ্দিন ১৯২৮ সালে খুলনা জেলার ফুলতলী থানার মধ্যডাঙ্গা গ্রামে। পিতা শেখ মফিজ উদ্দিন ও মাতা মতিনা খাতুন এর একমাত্র সন্তান ছিলেন তিনি। মফিজ উদ্দিন একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। যখন যে পণ্য সুবিধায় পেতেন তাই কেনাবেচা করতেন। তাঁর নারিকেল ও ধান চাউলের ব্যবসায়ের সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি যশোরের নোয়াপাড়া থেকে নারিকেল কিনে রংপুর, দিনাজপুর ইত্যাদি জায়গায় চালান দিতেন।
ছোটবেলায় আকিজ উদ্দিন দুষ্ট ও চঞ্চল ছিলেন। হৈ চৈ, বন্ধুদের সাথে মারামারি ও খেলাধুলা করে বেড়াতেন। মধ্যডাঙ্গা স্কুলে তিনি ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। চঞ্চলতা ও দুরন্তপনার জন্য মাঝে মাঝেই তিনি বকা ও মার খেতেন পিতার কাছে। একদিন পিতা তাকে কঠোর শাস্তি ও মারধোর করলেন, যা আকিজ উদ্দিন মেনে নিতে পারেন নি। তাই সবার অগোচরে বাড়ি থেকে মাত্র ১৭ টাকা নিয়ে কলকাতায় চলে আসেন। তখন ১৯৪০ সাল, তাঁর বয়স মাত্র ১২ বছর। কলকাতায় তাঁর আত্মীয়স্বজন এমন কি তাঁর পরিচিত কেউই ছিল না। সারাদিন ঘোরাঘুরি করে রাত্রে শিয়ালদহ স্টেশনের মেঝেতে ঘুমাতেন। ঐ সময় অনেক মানুষ কলকাতার বিভিন্ন স্থানে কাজ করে রাতে রেল স্টেশনেই ঘুমাতেন। আকিজ উদ্দিনের কাছে বিছানা না থাকায় ১ পয়সা দিয়ে কাগজ কিনে, ইটের উপর মাথা রেখে ঘুমাতেন। এভাবেই তাঁর দিন কাটতে থাকে।
এমন সময় তিনি ভাবতে থাকেন , কাজ জোটাতে না পারলে বাড়ি থেকে আনা টাকা এক সময় শেষ হয়ে যাবে। তাই তিনি রোজগার করার চিন্তা করলেন। একদিন বড় বাজারের রামলোচন মল্লিক স্ট্রীট দিয়ে যাওয়ার সময় দেখলেন এক জায়গায় কমলা লেবু নিলামে বিক্রয় হচ্ছে। এখানে নিয়মিত ফলমুল নিলামে বিক্রয় হত। কিশোর আকিজ অনেক সময় ধরে নিলাম ডাক দেখে নিজেও নিলামে অংশগ্রহণ করেন। এবং নিলামে আড়াই টাকা দিয়ে কমলা কিনেন। ঝোঁকের মাথায় কমলা কিনে এগুলো কোথায় বিক্রি করবেন তাই নিয়ে ভাবতে থাকেন। সেই সময় হাওড়া ব্রিজের কাজ মাত্র শেষ হয়েছে। এই ব্রিজেই কমলা বিক্রি করার মনস্থির করেন। ২ পয়সা কুলি ভাড়া দিয়ে সেই কমলাগুলো ব্রিজে নিয়ে আসেন। সে সময় ৪ ঘন্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে কিছু বিক্রি করলে পুলিশ কে ১ পয়সা করে ঘুষ দিতে হত। কুলি ও পুলিশ বাবদ ৪ টাকা খরচ হবার পরেও কমলা লেবু বিক্রি করে ১০ পয়সা লাভ করেন।
এই ব্যবসায় তিনি লাভজনক মনে করে পরবর্তী মাসেও তিনি এই ব্যবসায় চালিয়ে গেলেন। এইভাবে তিনি প্রায় ৩০০ টাকা মুল্ধন করেন। তখনও তিনি শিয়ালদহ স্টেশনে ঘুমাতেন আর পয়সা বেশি খরচ হবে বলে ২ পয়সার ছাতু খেয়ে সারা দিন রাতের ক্ষুধা মিটাতেন।
একসময় জাকারিয়া স্ট্রিট হোটেল মালিক তাঁর প্রতি সদয় হন এবং তাঁকে হোটেলে নিয়ে আসেন। হোটেলে তিনি ১ পয়সা দিয়ে পেট ভরে খেতে পারতেন ও হোটেলেই ঘুমাতেন। হোটেলে চলে আসার পর তিনি কমলা লেবুর ব্যবসায় ছেড়ে দিয়ে কলকাতার রাস্তায় রাস্তায় চার চাকার ঠেলাগাড়ির উপরে বিভিন্ন পণ্য সাজিয়ে বিক্রি শুরু করেন। এই দোকানে যা নেবেন সাড়ে ছয় আনায় পাওয়া যেতো। তাঁর দোকানে প্রায় ৩০ - ৩৫ রকমের পণ্য ছিল। এই দোকানের দোকানিরা সাধারনত হিন্দিতে ছড়া কেটে পণ্য বিক্রয় করত। আকিজ উদ্দিনের মত কিশোর ছেলের মুখে হিন্দিতে ছড়া শুনে অনেক ক্রেতা তাঁর দোকানে ভিড় জমাতে লাগলো। তাঁর বিক্রির পরিমাণ অন্যদের চেয়ে বেড়ে গেলো। প্রায় বছর খানেক দোকান চলার পর রাস্তায় দোকান করার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। বিচারে ৩ দিন জেল ও ৫ টাকা জরিমানা হয়। এতে তাঁর মন ভেঙ্গে পড়ে এবং জেল থেকে বেরিয়ে তিনি ঐ দোকান ও ঠেলাগাড়িটি বিক্রয় করে দেন।
এই সময় তাঁর মূলধন ছিল ৪৫০০ টাকা। এরপর তিনি কলকাতা ছেড়ে দিল্লিতে আসেন। দিল্লিতে কয়েকদিন এখানে ওখানে ঘুরে তাঁর মন টিকলো না। ১০-১২ দিন পর তিনি আবার কলকাতায় চলে আসেন। কলকাতায় এসে তিনি তরিতরকারির ব্যবসায় শুরু করেন। আড়ত থেকে তরকারি কিনে ঐ খুচরা বাজারেই বিক্রি করতেন। প্রায় ১ বছর তিনি এই ব্যবসায় চালিয়ে যান।
তিনি বাড়ি ছেড়েছিলেন ১৯৪০ সালে আর এখন ১৯৪৫ সাল। তখন ২য় বিশ্ব যুদ্ধ শেষ। এবার তিনি নিজের বাড়ি মধ্যডাঙ্গায় ফিরে আসে। এই ৫ বছর তাঁর বাড়ির সাথে কোন যোগাযোগ ছিল না এবং বাড়ি ফেরার সময় তাঁর কাছে ৮০০০ টাকা ছিল। আকিজ উদ্দিন বাড়ি ফেরার ৩ মাস পরেই তাঁর পিতা মারা যান ও পিতার মৃত্যুর ১ বছর পরেই তাঁর মাতাও মারা যান। ১৯৪৮ সালে ২০ বছর বয়সে আকিজ উদ্দিন তাঁর গ্রামের মেয়ে সখিনা খাতুন কে বিয়ে করেন।
আকিজ একমাত্র সন্তান হওয়ায় তাঁর পিতার মৃত্যুর পর পৈতৃক ব্যবসায় দেখাশোনার দায়িত্ব পড়ল তাঁর উপরেই। নিতাই চন্দ্র দাস নামে তাঁর একজন বন্ধু ছিল। তাঁর পিতা বিধু দাস বিড়ি বানাতেন এবং তাদের একটি মুদি দোকান ছিল। বিধুর বিড়ি নামে তাদের বিড়ি বেশ জনপ্রিয় ছিল। আকিজ উদ্দিন তাঁর জমানো টাকা থেকে নিতাই কে ধার দেয়ার কারনে তাদের সাথে ভাল সম্পর্ক গড়ে উঠে। এর সুবাদে আকিজ তাঁর বন্ধুর সাথে বিড়ির তামাক কেনার জন্য খুলনায় যেতেন। এভাবে তিনি বিড়ি ব্যবসায়ের পদ্ধতি গোপনে জেনে নেন।
১৯৫২ সালে তিনি নিজের টাকা ও পিতার সঞ্চিত টাকা দিয়ে বেজেরডাঙ্গা রেল স্টেশনের পাশে ৩ কাঠা জমি কিনে আকিজ উদ্দিন সেখানে একটি মুদি দোকান দেন। এই মুদি দোকানের মাধ্যমেই তিনি নিজে বিড়ি ব্যবসায় শুরু করেন এবং বিড়ি ব্যবসায় করার জন্য লাইসেন্সও সংগ্রহ করেন।
তিন জন কারিগর নিয়ে শুরু করেন বিড়ি ব্যবসায়। শুরু থেকেই তাঁর বিড়ির নামকরণ করা হয়েছিল আকিজ বিড়ি। ১৯৫৪ সাল থেকে বিড়ির লেবেল ছাপানো হত। ১৯৫৬ সালে আকিজ উদ্দিন ভারত থেকে বিড়ির পাতা আমদানির জন্য লাইসেন্স সংগ্রহ করেছিলেন। ১৯৫৪ - ১৯৫৬ সালের মধ্যে বিড়ি তৈরির জন্য তাঁর কারখানায় কারিগর এর সংখ্যা ছিল ৭০-৮০ জন। কারিগরদের কাজের জন্য তাঁর কেনা তিন কাঠা জমির উপর ২ তলা দালান ও একটি টিনের ঘর নির্মাণ করেন। দিন দিন আকিজ বিড়ির চাহিদা বাড়তে থাকে এবং কারিগর এর সংখ্যাও বাড়তে থাকে। ১৯৬০-৬২ সালে কারিগর এর সংখ্যা হয় ২৫০ জন।
কোন কারনে ১৯৫৪ সালে আকিজ উদ্দিন যশোরের নাভারনে আসেন এবং স্থানটি তাঁর খুব পছন্দ হয়। তিনি খোঁজ নিয়ে দেখেন এখানে ধানের দাম খুব সস্তা। তখন তিনি নাভারন থেকে ধান কিনে যশোরের নোয়াপাড়ার আড়তে বিক্রয় শুরু করেন। কাজের সুবিধার জন্য তিনি নাভারনে ৮ টাকা মাসিক ভাড়ায় একটি আড়ত ঘর নেন। ব্যবসায় বৃদ্ধির সাথে সাথে তিনি আরও কিছু ঘর ভাড়া নিয়েছিলেন এখানে।
এ সময় খুলনার ক্রিসেন্ট জুট মিলের পাট ক্রয় কর্মকর্তা আকিজ উদ্দিন কে পাটের ব্যবসায় শুরু করার জন্য উৎসাহ দেন। ঐ কর্মকর্তার পরামর্শে তিনি নাভারন থেকে পাট কিনে উক্ত জুট মিলে ও বিভিন্ন আড়তে সরবরাহ করতেন। ফলে তাঁর ব্যবসায়ী জীবনে আরেকটি ব্যবসায় সংযুক্ত হয়।
১৯৫৫ সালের শেষের দিকে আকিজ উদ্দিন নাভারনেও বিড়ি উৎপাদন শুরু করেন। এবং ১৯৫৬ সালে সপরিবারে নাভারনে এসে বসবাস শুরু করেন।
কাঁচা পাটের ব্যবসায়ে তাঁর প্রচুর মুনাফা হতে থাকে। তখন তিনি ১৯৬২ সালে খুলনার দৌলতপুরের স্থানীয় একজন পাট ব্যবসায়িকে অংশীদার করে 'ফতেহা জুট বেলিং' নামে একটি পাটের আড়ত খোলেন। ১৯৬৪ সালে অংশীদারের সাথে দ্বিমত হওয়ায় তিনি আড়তের ব্যবসায় ছেড়ে দেন।
পাটের আড়ত বন্ধ করে আকিজ উদ্দিন আবার নাভারনে এসে বিড়ির ব্যবসায়ের সাথে ডাল, গুড় ইত্যাদি ব্যবসায় নতুনভাবে শুরু করেন। নাভারন থেকে ডাল, গুড় কিনে সারা দেশের বিভিন্ন বাজারে বিক্রির জন্য বিভিন্ন স্থানে তাঁর মোকাম ছিলো।
১৯৭০ সালে যখন দেশের অবস্থা ঝুব খারাপ তখন তিনি পুরোদমে ব্যবসায় চালিয়ে যাচ্ছিলেন। ঐ বছরের প্রথমে তিনি ৪২ টাকা মন দরে খেজুরের গুড় কিনেছিলেন। তিনি মোট ৪০০০ মন গুড় কিনেছিলেন। পড়ে ১৯৭২ সালে ভৈরবে এই গুড় ১৬০ টাকা মন দরে বিক্রয় করেছেন। এই গুড়ের ব্যবসায় তাঁর লাভ হয়েছিল ৫ লাখ টাকার উপরে। ঠিক এইভাবেই ১৯৭০ সালে ১৬ টাকা মন দরে মসুরির ডাল কিনেছিলেন ১৫০০ মন, যা ১৯৭২ সালে ৬৫ টাকা মন দরে বিক্রি করেন।
১৯৭৩ সালে জাপানে তৈরি বিশেষ ধরণের কাগজে মোড়া বিড়ি প্রস্তুত শুরু হলে আকিজ উদ্দিন গ্রামের ছেলেদের নিজ হাতে বিড়ি বানানোর প্রশিক্ষণ দেন। পরে ধীরে ধীরে তাঁর কারখানায় কর্মীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। ১৯৭৪ সাল হতে ফিল্টার বিড়ি তৈরি শুরু হয়। এই ফিল্টার বিড়ি বাজার পাবার জন্য তিনি প্রতি হাজার বিড়ি তে ২-৩ টাকা লোকসানে বাজারে ছাড়েন। ফলে বাজারে আকিজ বিড়ির চাহিদা খুব বেড়ে যায়। চাহিদা মেটাতে তাঁর প্রতিদিন ৪০০০ কারিগর দ্বারা ১৫ লক্ষ বিড়ি তৈরি করে নিতে হত।
১৯৭৬ সালে একবার তিনি ঢাকায় আসেন অন্য কাজে। তখন ঢাকার বাজারে আকিজ বিড়ি আসেনি। ঢাকার বাজারে আকিজ বিড়ি ছাড়ার চিন্তা করলেন। তখন ঢাকার বাজারে যে সকল বিড়ি পাওয়া যায় সেগুলোর প্রত্যেকটার ১ প্যাকেট করে কিনে নিলেন। মোট ৩০ রকমের বিড়ি নিজে খেয়ে আকিজ বিড়ির সাথে তুলনা করে ভাবলেন অন্যান্য বিড়ির চেয়ে আকিজ বিড়ি কোন অংশে কম নয়। এরপর তিনি ১ ট্রাক বিড়ি ঢাকায় এনে নিজে দোকানিদের বিনামুল্যে খাওয়ালেন, দেখালেন এবং খুব তারাতারি বাজার দখল করে নিলেন। বিড়ির জন্য তিনি অনেক বিজ্ঞাপন দেন এবং রেডিও তে তাঁর বিড়ির বিজ্ঞাপন প্রথম প্রচার করা হয়।
বিভিন্ন স্থানে বিড়ি বিতরণের জন্য ১৯৫৬ সালে তিনি প্রথম একটি বেবিট্যাক্সি কিনেছিলেন এবং ১৯৭৪ সালে প্রথম ট্রাক কেনেন। ১৯৮২ সালে বিড়ি বিতরণের জন্য তাঁর মোট ১২ টি বেবিট্যাক্সি ও ৭ টি ট্রাক ছিল।
শিল্পপতি হিসেবে শেখ আকিজ "আকিজ" নামে শিল্প স্থাপন ও ক্রয়ের কাজে হাত দেন এবং শিল্পপতি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৭৭ সালে টঙ্গীতে অবস্থিত ঢাকা টোবাকো ফ্যাক্টরি লিমিটেড বিক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিলে আকিজ উদ্দিন ঐ মিল টি ৮০ লাখ টাকায় কিনে নেন। ১৯৭৮ সালের ১৫ মার্চ মাসে এই মিলের মালিকানায় তিনি শিল্পপতি হিসেবে চিহ্নিত হন। এই মিল হতে প্রতি বছর ৩০ কোটি উৎপাদন হত। K-2 ব্রান্ডের সিগারেট বাজারে প্রচুর চাহিদা ছিল যা তৈরি করত এই মিল।
শেখ আকিজ উদ্দিন ১৯৭৯ সালে যশোরে এস এ এফ ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড নামক একটি চামড়া ট্যানারির ব্রিটিশ মালিকের পুরো শেয়ার কিনে নেন।
১৯৭৯ সালে ১টি যাত্রীবাহী ও ২টি কার্গো লঞ্চ নিয়ে আকিজ নেভিগেশন কোম্পানি চালু করেন। এর আগে ১৯৭৪ সালে নিজের বড় ছেলের নামে যশোরে নাসির জর্দা ফ্যাক্টরি চালু করেন। ১৯৭৮ সালে কাঁচা পাটের রপ্তানিকারক নিযুক্ত হয়েছেন।
১৯৮০ সালে যশোরে ২ টি ইটের ভাটা তৈরির মাধ্যমে তিনি ইটের ব্যবসায় শুরু করেন। ঐ বছরেই ১২টি ট্রাকের সাহায্যে আকিজ ট্রান্সপোর্ট নামে একটি সাধারণ পরিবহন সংস্থা গঠন করেন। ঐ ১৯৮০ সালেই যশোর রেলগেটে একটি পেট্রোল পাম্প স্থাপন করেন। যার নাম দেন আকিজ পেট্রোলিয়াম। এর সাথেই তিনি যমুনা পেট্রোলিয়াম এর পরিবেশক নিযুক্ত হন।
১৯৮৩ সালে যশোরের চাচড়া এলাকায় "নাভারন প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজ লিমিটেড নামে একটি ছাপাখানা তৈরি করেন।
কর্মজীবনে ব্যবসায়ের প্রয়োজনে বিভিন্ন সময় আকিজ উদ্দিন বিভিন্ন দেশ সফর করেন। সমাজের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকার কাজ করে গেছেন তিনি। 
ব্যক্তিগতভাবে আকিজ উদ্দিন পাজামা পাঞ্জাবি পরতে পছন্দ করতেন। খুব সাদামাটা খাবার খেতেন। দিনে কমপক্ষে ১৬-১৭ ঘন্টা কাজ করতেন। তিনি একাই সকল ব্যবসায় নিয়ন্ত্রন করতেন। 
১০ ছেলে ও ৫ মেয়ে নিয়ে ছিল তাঁর পারিবারিক জীবন।

২০০৬ সালের অক্টোবর মাসে এই বিশিষ্ট শিল্পপতি ইহলোক ত্যাগ করেন।

Popular posts from this blog

অংশীদারি ব্যবসায়ের চুক্তিপত্র কিভাবে করবেন?

অংশীদারি ব্যবসায়ের মূল ভিত্তিই হল চুক্তি। চুক্তি ছাড়া অংশীদারি ব্যবসায় মুল্যহীন। অংশীদারি চুক্তিপত্র ব্যবসায়ের দিক - দর্শন হিসেবে কাজ করে। ভবিষ্যতে যেন কোন সমস্যা সৃষ্টি না হয় সেজন্য চুক্তিপত্রের বিষয়সমুহ ভালভাবে লিখতে হবে। তাহলে চলুন দেখে নেই চুক্তিপত্রে সাধারণত কোন বিষয়গুলো উল্লেখ থাকা উচিত। Sample of  partnership contract Stamp Paper ১) অংশীদারি ব্যবসায়ের নাম ও ঠিকানা। ২) ব্যবসায়ের প্রকৃতি ও উদ্দেশ্য। ৩) ব্যবসায়ের কার্যক্রম ও সম্ভাব্য এলাকা। ৪) অংশীদারদের নাম, ঠিকানা ও পেশা। ৫) ব্যবসায়ের মোট মুধনের পরিমাণ। ৬) অংশীদারদের প্রত্যেকের পুঁজির পরিমাণ ও তা পরিশোধ পদ্ধতি। ৭) অংশীদারগণ ব্যবসায় হতে কোন অর্থ উত্তোলন করতে পারবে কি না? পারলে কে কত বা কি হারে? ৮) মূলধন ও উত্তোলন করা টাকার ওপর কোন সুদ ধরা হবে কি না? হলে কি হারে ধরা হবে? ৯) ব্যবসায়ের লাভ লোকসান এর হার কেমন, কিভাবে বন্টন করা হবে? ১০) ব্যবসায়ের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি কেমন হবে? ১১) কোন ব্যাংকে হিসাব খোলা হবে? ঐ ব্যাংকের নাম, ঠিকানা ও হিসাবের ধরন কি হবে? ১২) ব্যাংকের হিসাব কে পরিচালনা করবে? ...

রংপুর বিভাগের সম্ভাবনাময় ব্যবসায় শিল্পসমূহ

Business In Rangpur আপনার বাড়ি যদি রংপুর বিভাগে হয় তাহলে আপনি দেখে নিতে পারেন আপনার জেলায় সম্ভাবনাময় কি কি ব্যবসায় শিল্পগুলো রয়েছে। সম্ভাবনাময় ব্যবসায় শিল্পের নামের সাথে কত টাকা মূলধন হলে আপনি শুরু করতে পারবেন তা উল্লেখ করা হল। রংপুর বিভাগে যে ব্যবসায় শিল্পগুলো খুবই সম্ভাবনাময় তার তালিকা - রংপুর জেলাঃ  সম্ভাবনাময় ব্যবসায় শিল্পের নাম ---- মূলধন অফসেট প্রিন্টিং প্রেস - ১২৫ লাখ টাকা গজ ও ব্যান্ডেজ - ১৫ লাখ টাকা ইলেকট্রিক গুডস - ১২ লাখ প্লাস্টিক প্রোডাক্টস - ২৫ লাখ অটোমোবাইল সার্ভিসিং এন্ড রিপেয়ারিং - ৩৮ লাখ হাল্কা প্রকৌশল কারখানা - ৪০ লাখ অটোমেটিক বিস্কুট ফ্যাক্টরি - ১৪০ লাখ সাইকেল ও রিক্সার যন্ত্রাংশ কারখানা - ২০ লাখ দিনাজপুর জেলাঃ  সম্ভাবনাময় ব্যবসায় শিল্পের নাম ---- মূলধন টাইলস কারখানা - ২৭০ লাখ টাকা মার্বেল পাথরে শিল্প - ২৫০ লাখ টাকা মোজাইক পাথর শিল্প - ৯৫ লাখ টাকা স্টোন ক্রাশিং - ৯০ লাখ টাকা ফ্লাওয়ার মিল - ২৫০ লাখ টাকা সেমাই ও নুডুলস কারখানা - ২৬০ লাখ টাকা ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প - ১৭৫ লাখ টাকা কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরি শিল্প - ১৩৫ লা...

Small Business - ক্ষুদ্র ব্যবসায়ে সফল হওয়ার উপায়

খুব সহজেই ক্ষুদ্র ব্যবসায় গড়ে তোলা যায় কিন্তু খুব সহজেই কি সফলতা পাওয়া যায়? সফলতা পেতে হলে একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানকে নানা বাধা বিপত্তি দূর করতে হয়। অবলম্বন করতে হয় নান কৌশল। কিভাবে একটি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ে সফল হবেন তাই নিয়ে আজকের আলোচনা। পরিকল্পনাঃ  পরিকল্পনা হল কোন কাজের ৫০% সফলতা। আপনার পরিকল্পনা যদি উদ্দেশ্যমাফিক হয় তাহলে সফলতা খুব সহজেই অর্জন করা যায়। পরিকল্পনা মূলত ভবিষ্যতের ছবি। ভবিষ্যতে আপনার ব্যবসায়ের ক্রেতা কারা হবে, তাদের রুচি / পছন্দ কেমন হবে, দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থা কেমন হবে এইসব নিরূপণ করবেন। সঠিক কর্মীঃ  ক্ষুদ্র ব্যবসায়ে সফলতার অন্যতম পূর্বশর্ত হল উপযুক্ত ও দক্ষ কর্মী নির্বাচন করা। উপযুক্ত ও দক্ষ কর্মী দ্বারা আপনার ব্যবসায়ের উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনা সফল হবে। আপনার পণ্যের গুনগত মান ঠিক থাকবে ফলে আপনার পণ্যের ক্রেতা সন্তুষ্টি অর্জন হবে। ব্যবসায়ের স্থানঃ  ক্ষুদ্র ব্যবসায়ে সফলতার অন্যতম কারণ হল আপনার ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের অবস্থান। যে স্থানে আপনার পণ্যের কাঁচামাল খুব সহজে পাবেন, দক্ষ শ্রমিক পাবেন, ভাল যোগাযোগ ব্যবস্থা, আপনার পণ্যের ক্রেতা যেখান...